প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় সরকারি বিশেষ বরাদ্দের সামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র ও প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য নির্ধারিত সহায়তা সামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা একটি বাইসাইকেল প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে না দিয়ে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার স্বজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই সাইকেল ফেরত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন অসচ্ছল মানুষের জন্য বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে যন্ত্র, হুইলচেয়ার ও ক্রীড়াসামগ্রী বরাদ্দ করা হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, এসব সামগ্রীর একটি অংশ প্রকৃত উপকারভোগীদের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা পর্যায়ের এক জামায়াত নেতা। জানা যায়, একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ হওয়া বাইসাইকেল তিনি নিজেই গ্রহণ করেন। পরে সেটি তাঁর নাতনির কাছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের উদ্যোগে সাইকেলটি ফেরত এনে প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, তার নামে বরাদ্দ হলেও শুরুতে সে সাইকেলটি পায়নি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে একই কর্মসূচির আওতায় বিতরণ হওয়া সেলাই মেশিন, ছাগল ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু সামগ্রী রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসন অনুসন্ধান শুরু করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাইসাইকেল বিতরণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি ফেরত আনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সামগ্রী বিতরণেও কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সরকারি সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অভিযোগ জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



