রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করুন, বাধা দেবে না কেউ: আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করুন, বাধা দেবে না কেউ: আইনমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধর্মের মানুষকে অন্য কেউ বাধা দেবে না—এমন একটি সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে শৈলকুপা রামগোপাল মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন। অন্যের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও কেউ বাধা সৃষ্টি করবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজ থেকে অপশক্তি দূর করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই প্রচেষ্টায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্মীয় বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, একটি দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি অনেকাংশেই নির্ভর করে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর। তাই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভেদ নয়, মানুষের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি।

আলোচনা সভা শেষে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিভিন্ন সাজসজ্জা ও ধর্মীয় আবহের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি শৈলকুপা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে স্থানীয় ভক্ত ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পুরো আয়োজনকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!