প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মারধর, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখিপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেরিতে আসেন এবং প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওই দিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় প্রধান শিক্ষক তাকে ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন, গলা চেপে ধরেন এবং মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. জাহানারা বেগম, মো. ইদ্রিস আলী, বিপুল বর্মণ, মাসুমা খাতুন, রাবেয়া খাতুন, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম এবং দপ্তরি জিয়াউর হক জিয়া উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
৮৭ নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহীন আহমেদ বলেন, দেলোয়ার হোসেন ঐদিন ছুটি চেয়েছেন প্রধান শিক্ষক ছুটি দেওয়া যাবে না বলে বলেন আজ স্কুলে সহকারী শিক্ষা অফিসার স্যার আসবেন ছুটি দেওয়া যাবে না তাতেই দেলোয়ার হোসেন রেগে গিয়ে প্রধান শিক্ষকে মারধর করেন।
৮৭ নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম বলেন দেলোয়ার হোসেন ছুটি চেয়েছিলেন কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছুটি দিতে নারাজি হয় এবং বহুদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুইজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, "আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, "অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয় অভিযুক্ত ৮৭ নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাচ্চা অসুস্থ থাকায় আমি ছুটি চেয়েছিলাম কিন্তু উনি বলেন ছুটি দেওয়া যাবে না বিরক্ত হয়ে হাতাহাতি হয়ে যায় তখন মাথা ঠিক ছিলো না। তিনি বহুদিন ধরে আমার প্রতি অত্যাচার করে আসছিলেন। তার কারনে আমার পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তার বিচার চাই।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষকরা সমাজ গঠনের অন্যতম কারিগর। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যেকোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত ছিল। কোনো পরিস্থিতিতেই শারীরিক সংঘর্ষ গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।



