রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২ মাসের শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা, গোপন ক্যামেরায় ধরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

২ মাসের শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা, গোপন ক্যামেরায় ধরা

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় মাত্র দুই মাস বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির অস্বাভাবিক কান্না এবং আচরণ দেখে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে গোপনে নজরদারির ব্যবস্থা করার পর ঘটনার একটি দৃশ্য তাদের হাতে আসে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, শিশুটি জন্মের পর থেকেই প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি করত। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে শিশুটির মা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার মনে সন্দেহ জাগে, অনুপস্থিতির সুযোগে কেউ শিশুটির সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে কি না। সেই সন্দেহ থেকেই ঘরের ভেতরে গোপনে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

পরে ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়, পরিবারের এক নারী সদস্য শিশুটির কাছে গিয়ে এমন আচরণ করেন, যা নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর শিশুটির কান্না শুনে তার মা দ্রুত ছুটে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে তার সন্তানকে কষ্ট দেওয়া হতো। যদিও তিনি জানিয়েছেন, শিশুটির কোনো হাড় ভাঙেনি এবং বর্তমানে সে শারীরিকভাবে নিরাপদ রয়েছে। পরিবারের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুটির ওপর অমানবিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা মানসিক নির্যাতন ভবিষ্যতে তাদের বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এমন ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!