প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদী এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে। তবে অভিযোগের মুখে থাকা শিশুটির চাচি এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত নারী শিশুটির পা জোরে মুচড়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি শিশুর মা গোপনে নিজের মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন। পরে কয়েক সপ্তাহ পর সেই ভিডিও পরিবারের এক আত্মীয়ের কাছে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই শিশুর ওপর এমন আচরণের কঠোর বিচার দাবি করেন। ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় চলে আসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত নারীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি মুঠোফোন জব্দ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শিশুটির মা-বাবা জানিয়েছেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে কয়েক দিন আগেই মীমাংসা করা হয়েছে। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে শিশুর পা ভেঙে যাওয়ার কথা প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজনও হয়নি। এ ঘটনায় তারা কোনো অভিযোগ দায়ের করতে চাননি বলেও জানিয়েছেন।
তবে পুলিশ বলছে, ভিডিওতে দেখা দৃশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মধ্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। তাই শুধুমাত্র পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে তদন্ত বন্ধ করা হবে না। ভিডিওর সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রচারিত তথ্যের যথার্থতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিশু নির্যাতনের মতো অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বর্তমানে অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



