রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যমুনার ভাঙনে বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

যমুনার ভাঙনে বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

ফাইল ছবি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির প্রভাবে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা অব্যাহত থাকায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত যমুনা নদীর পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয়েছে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকা। নদীর তীব্র স্রোত ও বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ছে নদীতীর। প্রতিদিনই নতুন নতুন কৃষিজমি, ফলজ ও বনজ গাছ এবং বসতভিটা নদীতে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার রাতারাতি বসতঘর হারিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দিনের ব্যবধানে বহু বিঘা আবাদি জমি নদীতে চলে গেছে। দীর্ঘদিনের পৈতৃক ভিটেমাটিও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কৃষকদের ভাষ্য, শুধু জমি নয়, তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বনও নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন এবং কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন, তা নিয়ে তারা গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের ভাঙনের মুখোমুখি হলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অস্থায়ী উদ্যোগে কিছুদিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছরই শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হয়েছে। নদীতীর রক্ষায় বিশেষ বস্তা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধসামগ্রী ব্যবহার করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীভাঙন শুধু ঘরবাড়ি ও কৃষিজমির ক্ষতি করে না, এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!