রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চোখের সামনে ভেঙে যাচ্ছে ভিটেমাটি, আতঙ্কে শত শত পরিবার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

চোখের সামনে ভেঙে যাচ্ছে ভিটেমাটি, আতঙ্কে শত শত পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নদীর তীব্র স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বাঁশঝাড় একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে শুধু দক্ষিণ রসুলপুর এলাকাতেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বিঘা আবাদি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। প্রথমে কৃষিজমি ভাঙলেও এখন বসতবাড়ির দিকেও এগিয়ে এসেছে ভাঙন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ গাছ কেটে বিক্রি করছেন, কেউ আবার কোথায় আশ্রয় নেবেন তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

ভাঙনকবলিত বাসিন্দা নূরি আক্তার বলেন, কয়েক দিন ধরে ধীরে ধীরে ভাঙন হচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চোখের পলকে গাছপালা ও বাঁশঝাড় নদীতে তলিয়ে গেছে। এখন শুধু ঘরগুলো কোনোমতে টিকে আছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা না হলে তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও হারাতে হবে।

কৃষক চান্দু মিয়া জানান, তার বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা আম, জাম, মেহগনি, জাম্বুরা ও আতাগাছসহ বড় একটি বাঁশঝাড় নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্মকর্তারা এসে আশ্বাস দিলেও কার্যকর কাজ চোখে পড়ছে না।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন নদীতীরে বর্তমানে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি স্থানে ভাঙন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্থানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধক কাজ শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় নদীভাঙনে ইতোমধ্যে শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ আবাদি জমিও নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। নদীপাড়ের মানুষ এখন দিন গুনছেন—পরবর্তী ভাঙনের শিকার হবে কার বাড়ি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!