প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে লাল থেকে নীলচে-সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা মত ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনার পেছনে একাধিক বৈজ্ঞানিক কারণ থাকতে পারে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
জানা গেছে, একটি ভোজের আয়োজন উপলক্ষে কয়েকজন কর্মচারী বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে রান্না শুরু করেন। প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছু সময় পর কড়াইয়ে থাকা মাংসের রং ধীরে ধীরে নীলচে-সবুজ আভা ধারণ করে। এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলা হয় এবং প্রশাসনের কাছেও জানানো হয়। তবে লিখিত অভিযোগ না থাকায় মাংসের কোনো নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুরো মাংসই ফেলে দেওয়া হয়।
মাংস বিক্রেতার দাবি, সংরক্ষণের সময় ব্যবহৃত পাত্র কিংবা রান্নার সরঞ্জামের সঙ্গে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে। অন্যদিকে যারা রান্না করছিলেন তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক মসলা ও তেল ছাড়া অন্য কোনো উপাদান ব্যবহার করা হয়নি।
খাদ্য ও প্রাণিজ পণ্য নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংসের রং অস্বাভাবিকভাবে সবুজ বা নীলচে হয়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। দীর্ঘ সময় অনুপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করলে কিছু অণুজীবের প্রভাবে মাংসের প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে রঙের পরিবর্তন দেখা দেয়। আবার সংরক্ষণের পদ্ধতি ঠিক না থাকলেও একই ধরনের পরিবর্তন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধাতব পাত্রের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের বিক্রিয়ায়ও কখনো কখনো মাংসে অস্বাভাবিক রঙের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সংরক্ষণ বা রান্নার সময় ব্যবহৃত পাত্রের গুণগত মান ঠিক না থাকলে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া মাংসে অণুজীবের উপস্থিতি বা পচনপ্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়েও এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞদের পরামর্শ, রান্নার সময় যদি মাংসের রং অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়, কিংবা দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, তাহলে সেই মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন ছাড়া কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে পরীক্ষার সুযোগ নষ্ট হওয়ায়। যদি মাংসের নমুনা সংরক্ষণ করে পরীক্ষা করা হতো, তাহলে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যেত। এখন বিষয়টি নানা অনুমান ও আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে। সংরক্ষিত মাংস কেনার আগে এর মান যাচাই করা, যথাযথ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং রান্নার সময় অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



