প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
নওগাঁ সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৭ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
বুধবার বিকেলে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালে চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ফুটবল খেলা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি গান গাইতে শুরু করে। পরে গান শুনে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।
এ ঘটনায় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অন্তত ১৭ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে—উভয় শিক্ষার্থী রয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের সামনে তারা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলেন।
একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, শিক্ষক নির্দিষ্ট একটি ফুটবল দলের সমর্থক। সেই দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় তিনি রাগান্বিত হয়ে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, কোনো ধরনের সতর্কতা বা বোঝানোর চেষ্টা না করে সরাসরি মারধর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে চান।
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।



