রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিয়াল ঠেকাতে নিজের পাতা বিদ্যুতের ফাঁদেই প্রাণ গেল খামারির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

শিয়াল ঠেকাতে নিজের পাতা বিদ্যুতের ফাঁদেই প্রাণ গেল খামারির

সংগৃহীত

নাটোরের লালপুর উপজেলায় মুরগির খামারকে শিয়ালের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন এক খামারি। খামারের চারপাশে স্থাপন করা লোহার তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর অসাবধানতাবশত সেই তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কয়লার ডহর এলাকার পদ্মার চরসংলগ্ন একটি মুরগির খামারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়ারুল ইসলাম (৩০) উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে মুরগির খামার পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শিয়ালের আক্রমণে খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। সেই ক্ষতি এড়াতে খামারের চারদিকে লোহার তারের বেড়া তৈরি করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন জিয়ারুল। রোববার সকালে খামারে কাজ করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত তারের স্পর্শে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।

কিছুক্ষণ পর তার মা খামারে গিয়ে ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা বলেন, খামারকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা খামার ও কৃষিকাজে বিদ্যুতের অনিরাপদ ব্যবহার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকাজ বা খামারে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করে বিদ্যুতের সরাসরি সংযোগ ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতাও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!