প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
দেশজুড়ে অপরাধ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দেশব্যাপী নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং বিভিন্ন মামলায় ও নিয়মিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৮৩ হাজার ৮১৭ জন।
একই সময়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক, দেশীয় অস্ত্র এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, বন্দুক, রিভলভার, রাইফেল, পাইপগান, শটগান, সাবমেশিনগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরকও জব্দ করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, বিদেশি ও দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মাদক-সংক্রান্ত ১৪ হাজারের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক নজরদারি ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ ডাকাতি, মাদক পাচার, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, মানবিক আচরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও বলেন, কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় বিবেচনা না করে সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই সরকারের চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।



