প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর অপমান ও মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, তাকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং এক তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি গাছের সঙ্গে দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় উপস্থিত কিছু ব্যক্তি তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন পুরো বিষয়টি ধারণ করে পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্বজনদের ভাষ্য, প্রকাশ্যে অপমান এবং মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে ছাত্রীটি বিষপান করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে সে।
এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের একজন দাবি করেছেন, তিনি কেবল দুইজনকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
অন্যদিকে, কাশিয়ানী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



