প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এক প্রবাসফেরত অসুস্থ ব্যক্তিকে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জামাল উদ্দিন (৪৯) দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। কয়েক বছর আগে কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর তার চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বৃষ্টি শুরু হলে মানবেতর অবস্থায় পড়ে থাকা জামালকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাশবাড়ি দক্ষিণ পাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এরপর জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং দীর্ঘদিন সেখানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী বলেন, তিনি বহু আগেই ভাইকে শ্বশুরবাড়িতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার দাবি, বর্তমানে জামাল অত্যন্ত অসুস্থ এবং ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রিনা আক্তার দাবি করেন, কয়েক মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। তার ভাষ্য, বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নেই এবং ওই রাতে জামাল কীভাবে সেখানে পৌঁছেছেন সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা অসুস্থ জামাল উদ্দিনের উন্নত চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



