প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ফার্মের বাদামি ডিমের প্রতি ডজনের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে, ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে ফার্মের বাদামি ডিমের প্রতি ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হতো, এখন অধিকাংশ বাজারেই তা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এই দাম আরও বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজির দাম বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগিও আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে খামার থেকে বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
তবে খুচরা বিক্রেতাদের অনেকে মনে করছেন, বৃষ্টি যতটা না প্রভাব ফেলছে, তার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে পাইকারি পর্যায়ে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর প্রবণতা। তাদের ভাষ্য, এক বা দুই দিনের বৃষ্টিকেই অনেক সময় অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সরবরাহকারীরা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করেন।
অন্যদিকে খামারিদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান দামের ঊর্ধ্বগতি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, রাজধানীর আশপাশের উৎপাদন এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো বন্যা বা বড় ধরনের সরবরাহ সংকট না থাকলেও বাজারে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে একটি অসাধু চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডিম ও মুরগির এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।



