রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৮ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

৮ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা

সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখ বাবার জানাজায় অংশ নিতে আট ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় জানাজায় অংশ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কামাল হোসেন শেখের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কোটালীপাড়ার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি চার ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।

শেখ লুৎফর রহমান কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।

বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কামাল হোসেন শেখকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে তাকে আট ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

শনিবার পুলিশের নিরাপত্তায় কারাগার থেকে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে কোটালীপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে পৌঁছে বাবার মরদেহ দেখার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বাবার মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কামাল হোসেন। তাঁর কান্না দেখে স্বজনদের মধ্যেও শোকের আবহ আরও ভারী হয়ে ওঠে।

শনিবার বাদ আসর কোটালীপাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর ভবনের মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চপল্লী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

দুই জানাজায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াদ মাহমুদ জানান, কামাল হোসেন শেখের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। বাবার মৃত্যুর কারণে আট ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। জানাজা শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার কারাগারে ফিরতে হয়েছে কামাল হোসেন শেখকে। স্বজনদের কাছে এ বিদায় ছিল একই সঙ্গে শোক ও আবেগে ভরা এক কঠিন মুহূর্ত।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!