প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বেড়িপটল গ্রামের ভেংগুলা বাজারের উত্তর পাশ থেকে বেড়িপটল বটতলা হয়ে সুতারবাড়ি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, কাদা ও পানি জমে থাকায় গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয় এটি কোনো রাস্তা নয়, বরং ধানক্ষেতের সঙ্গে এর কোনো পার্থক্য নেই। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগের পরও কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কের ওপর প্রায় ৩ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নির্ভরশীল। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন চালকরাও ঝুঁকির কারণে এই সড়ক দিয়ে যেতে চান না।
উপায় না পেয়ে রাস্তায় ধান চাষের উদ্যোগ
সড়কের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে উপায় না পেয়ে রাস্তায় ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই প্রতীকীভাবে রাস্তায় ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, গোপালপুর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির দিকে নজর দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একটি গ্রামের প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রতি জোর আবেদন জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত সড়কটির উন্নয়ন ও পাকাকরণের ব্যবস্থা করা হলে প্রায় ৩ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি সেবায় যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



