প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের দেওয়া অভিনন্দনপত্রে এসব দাবি উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে মিশনারিদের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ, আলেমদের বিরুদ্ধে আগের সরকারের সময় করা মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আলেম সমাজকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম নিয়েও হেফাজতের পক্ষ থেকে একটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটি ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে তার অনুসারীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অভিনন্দনপত্রে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংগঠনটির বিভিন্ন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়। বৈঠকে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



