রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৮:২৬ এএম

সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মিতুল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানার আওতাধীন ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহত মিতুল কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি ঝালকাঠির সাহাবাঙ্গল গ্রামের মো. রাসেল সরদারের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তাদের মধ্যে সাবেক যুবদল নেতা সোবহান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণের অনুসারীরা রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও শনিবার রাতে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিতুলকে কাপড় কাটার কাচি দিয়ে বুকে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মিতুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাতেই প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। হাসপাতাল এলাকায়ও এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার বিষয়ে মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা তাঁর সরাসরি সমর্থক নন। তবে বিভিন্ন মিছিল ও সভায় তাদের দেখা যায় বলে জানান তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না বলেও দাবি করেন।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৩ তলায় থাকা শ্রমিকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সেই পূর্ববিরোধের জেরেই সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।

সূত্রাপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, এক যুবককে কাপড় কাটার কাচি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংঘর্ষে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!