প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় গভীর রাতে রাস্তায় পড়ে থাকা প্রবাসী জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজির বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৫৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়া জামালের শেষ দিনগুলো কেটেছে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামালের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারতেন না। গত শুক্রবার সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে কালমেঘায় ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন ও পরিচর্যার মধ্যেই সোমবার তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২ আগস্ট রাতে কালমেঘা এলাকায় জামালকে রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে সেখানে রেখে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে দেখতে পান। পরে বৃষ্টি শুরু হলে ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে গত ৪ আগস্ট জামালকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় ১০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তাকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামাল। সেখানে প্রায় ১২ বছর থাকার পর কয়েক মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
জামালের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ, বিদেশে থাকাকালে তিনি উপার্জনের অর্থ স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। কিন্তু দেশে ফিরে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
তবে জামালের স্ত্রী রিনা আক্তারের দাবি, প্রায় আড়াই মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তার ভাষ্য, বিচ্ছেদের পর জামাল আর তার স্বামী নন। এ কারণে তাকে গাড়িতে করে গ্রামের বাড়ির এলাকায় রেখে আসা হয়েছিল।
এদিকে জামালের মৃত্যুর পর তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, অসুস্থ অবস্থায় জামালের চিকিৎসায় এলাকাবাসী সহযোগিতা করেছিলেন। এবারও স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।



