প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন পিরোজপুর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু। রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত একই সঙ্গে আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন মেহেরপুরের পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে এই অর্থ অন্য দাবির তুলনায় অগ্রাধিকার পাবে।
এ ছাড়া আইন অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি প্রয়োজন হলে নিলামে বিক্রি করে অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা রয়েছে।
রায় ঘোষণার পর কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদালতকক্ষ থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রায়ের বিরুদ্ধে আসামি চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। বিচারাধীন সময়ে তিনি যে সময় কারাগারে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় সাজা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।



