রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় গবাদিপশুর খাবারের জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বৈদ্যুতিক মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দম্পতি হলেন মাধবপুর গ্রামের অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক (৭০) ও তাঁর স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)। তাঁদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে অমরেন্দ্র নাথ গবাদিপশুর খাবার প্রস্তুত করার জন্য বাড়ির গোয়ালঘরে বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে ঘাস কাটছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে কোনোভাবে মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিদ্যুতের সংস্পর্শে পড়ে তিনি ছটফট করতে থাকেন।

স্বামীকে এ অবস্থায় দেখে তাঁকে রক্ষা করতে দ্রুত এগিয়ে আসেন স্ত্রী মিনা ভৌমিক। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই স্বামীকে ধরতে যাওয়ায় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন গুরুতরভাবে বিদ্যুতায়িত হন।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা প্রথমে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর অমরেন্দ্র নাথ ও মিনা ভৌমিককে উদ্ধার করে দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান জোহা জানান, দুজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। অতিরিক্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

একই ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে মাধবপুর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। দীর্ঘদিনের সংসারজীবনের দুই সঙ্গীর এমন একসঙ্গে চলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল-সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখেছে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, নিহত দুজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!