প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
চাঁদপুর শহরে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ এক ব্যবসায়ীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন শহরের মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় এবং চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ব্যবসায়িক বিভিন্ন কারণে তিনি আর্থিক সংকটে ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন বলেও স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে অর্থ দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার বন্ধক নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে সেগুলো ফেরত দিতে না পারায় তিনি সংকটে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ার কথাও স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর তার কাছে স্বর্ণ বন্ধক রাখা কয়েকজন ব্যক্তি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান দাবি করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। এরপরই পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তিনি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার কথাও জানান রাসেল।
এ ছাড়া জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন।
পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি কোনো কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি জানার পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখে নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



