প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
চাঁদপুরের কচুয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে কচুয়া পৌরসভার কোয়া চাঁদপুর গ্রামের কালাগাজী বাড়ি থেকে নাদিয়া আক্তার (১৮) নামের ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাদিয়া কচুয়া উপজেলার তুলপাই গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি পাশের চান্দিনা উপজেলার কৈলান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন তিনি। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
নাদিয়ার মা নুরুন্নাহার বেগম জানান, তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। শুক্রবার সকালে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে প্রায় ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় মেয়ের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয় তার। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মেয়ে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও তাকে এ নিয়ে কোনো ধরনের বকাঝকা করা হয়নি। নাদিয়া তার মা ও ছোট বোনের সঙ্গে নানার বাড়িতে থাকতেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও জানা গেছে, নাদিয়ার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন না এবং তাদের ভরণপোষণেও তেমন ভূমিকা ছিল না। ফলে নুরুন্নাহার বেগম নিজেই কাজ করে দুই মেয়ের দেখাশোনা করতেন। মৃত্যুর আগে নাদিয়া তার বাবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছিলেন বলেও স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন। তবে ওই কথোপকথনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।



