রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০১:২২ পিএম

ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে বারবার নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসা পরীক্ষায় তাকে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত নেতাকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা মঙ্গলবার রাতে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত বকুলকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরী যখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, তখন ২০২২ সালের নভেম্বরে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনার দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই দৃশ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে আবারও নির্যাতন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে অন্য কয়েকজনকেও এ ঘটনায় যুক্ত করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে এক নারী সহযোগীর মাধ্যমে কিশোরীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একাধিক ব্যক্তি তাকে নির্যাতন করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ আগস্ট কিশোরীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরিবারের কাছে ঘটনাগুলো প্রকাশ করে। ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান বলে পরিবারের দাবি।

এদিকে মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!