প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মেয়ের জামাইয়ের কুড়ালের আঘাতে আব্দুল মজিদ নামে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জামালপুর বাজারে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত জামাই মোজাম্মেল পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
নিহত আব্দুল মজিদ জামালপুর গ্রামের মৃত আলকু মোড়লের ছেলে। অভিযুক্ত মোজাম্মেল একই এলাকার মধ্যপাড়া গ্রামের নোয়াব আলীর ছেলে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মজিদের মেয়ে শাহানাজকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন তাঁর স্বামী মোজাম্মেল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
শুক্রবার বিকেলে মোজাম্মেল ফোন করে শ্বশুর আব্দুল মজিদকে জামালপুর বাজারে আসতে বলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন আছে বলে মজিদকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়। পরে বাজারে দুজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নিহতের ছেলে বিল্লালের দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মোজাম্মেল তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ব্রিফকেস খুলে কুড়াল বের করেন। এরপর আকস্মিকভাবে আব্দুল মজিদের মাথায় কোপ দেন। গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। হামলার পর মোজাম্মেল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
কুড়ালের আঘাতে গুরুতর আহত মজিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে নোভা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. জিয়াউর রহমান জানান, মাথার পেছনের দিকে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আব্দুল মজিদকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।



