প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
পটুয়াখালীর দুমকীতে একটি মসজিদের ভেতরের কক্ষ থেকে মো. সাইম নামে ২০ বছর বয়সী এক মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত সাইম পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের ছোট জামুরা এলাকার মৃত জব্বার মৃধার ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নিয়মিতভাবে মসজিদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের কাছেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মসজিদে আসা এক মুসল্লি ভেতরের একটি দরজা খোলা দেখতে পান। বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হলে তিনি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার জন্য নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে খাটের ওপর সাইমকে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে জড়ো হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে সাইমের মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মসজিদের ওই কক্ষে থাকা ফ্যানের হুকের সঙ্গে একটি দড়ি লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সাইমের গলায় দাগও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে দড়ি পাওয়া যাওয়া বা গলায় দাগ থাকার ভিত্তিতে সাইম আত্মহত্যা করেছেন—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো দেয়নি পুলিশ। তিনি কীভাবে মারা গেলেন, মৃত্যুর আগে সেখানে কী ঘটেছিল এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করা একজন তরুণের এভাবে মৃত্যু হওয়ায় তাঁর পরিচিতজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান বা নিশ্চিত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি মরদেহের ময়নাতদন্তের ফলাফলও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাইমের মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অপেক্ষা এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই সাইমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে।



