প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন একটি হোটেলের কক্ষ থেকে লি শিংচিয়াং নামে ৪০ বছর বয়সী এক চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি হোটেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার দিকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর প্লটের বেঙ্গল হোটেল অ্যান্ড হসপিটালিটি লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। হোটেলটির নয়তলার ৯০৫ নম্বর কক্ষে লি শিংচিয়াং অবস্থান করছিলেন।
সকালে হোটেলের কর্মীরা ওই কক্ষের ভেতরে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষটি পরিদর্শন করে। পরে সেখান থেকে লি শিংচিয়াংয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না পুলিশ।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করছে। ওই কক্ষে তিনি কত সময় ধরে অবস্থান করছিলেন, তার সঙ্গে কেউ ছিলেন কি না এবং মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই নাগরিকের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য, অবস্থানের সময়কাল এবং তার পরিচিতজনদের বিষয়ে তথ্য নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ঘিরে হোটেলটির আশপাশে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো ধরনের অনুমান করা ঠিক হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করার পর মৃত্যুর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে নিহত চীনা নাগরিকের পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তার মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।



