রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লিফটের ফাঁকা জায়গায় পড়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০১:১০ পিএম

লিফটের ফাঁকা জায়গায় পড়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর হাজারীবাগে একটি ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় পড়ে সুভাষ চন্দ্র পাল নামে ৭৩ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে টালি অফিস মোড়ের সুলতানগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সুভাষ চন্দ্র পাল ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাজারীবাগের টালি অফিস এলাকার ২৫৫/২ নম্বর ভবনের সপ্তম তলায় নিজ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও হাঁটতে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সুভাষ চন্দ্র। সকাল ৭টার দিকে ভবনের নিচে যাওয়ার পর কোনো এক সময় তিনি লিফটের ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান। ভবনটির নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু গুরুতর আহত সুভাষ চন্দ্রকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে কৃষ্ণ গোপাল পাল জানান, ভবনের সপ্তম তলায় তাদের নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। তার বাবা নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হতেন। দুর্ঘটনার পর নির্মাণশ্রমিকদের কাছ থেকেই পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে তিনি লিফটের ফাঁকা জায়গায় পড়ে গেছেন। পরে শ্রমিকদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গাটি কী অবস্থায় ছিল এবং সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, চিকিৎসক সুভাষ চন্দ্র পালকে মৃত ঘোষণা করার পর তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাজারীবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। ভবনের নির্মাণকাজ, লিফটের ফাঁকা জায়গা এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন শিক্ষকতা শেষে অবসর জীবন কাটানো সুভাষ চন্দ্রের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁটতে বের হলেও আর জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফেরা হলো না তার।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!