রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টঙ্গী থানার ভেতর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

টঙ্গী থানার ভেতর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান

সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম ও পূর্ব থানার পুলিশ পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় টঙ্গী পূর্ব থানার ভেতরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন স্বজন ও সমর্থক রাজনৈতিক স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানার মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ পৃথক অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ একজনকে আটক করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর জন্য থানায় রাখা হয়। এ সময় তাদের স্বজন ও পরিচিতদের কয়েকজন থানার ভেতরে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনাটি ঘিরে থানার অভ্যন্তরে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, সাধারণত থানার ভেতরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ সদস্যদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেখানে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন সংবাদকর্মী তাদের মুঠোফোনে স্লোগান দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করেন বলে জানা গেছে। পরে কয়েকজনের অভিযোগ, টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী পুলিশ কমিশনার তাদের ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার জন্য বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি মুঠোফোন থেকে ওই ঘটনার ভিডিও সরিয়েও দেওয়া হয়। তবে ঠিক কী কারণে ভিডিও মুছে দিতে বলা হয়েছিল এবং কার নির্দেশে তা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলছেন, থানার ভেতরে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজন বা সমর্থকেরা যদি এমন স্লোগান দিয়ে থাকেন, তাহলে থানার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা কেন তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেননি, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন থানার ভেতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের পরিচয়ও জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন—গাজীপুরের বড় দেওরা এলাকার মন্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক, শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন, নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব, ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. ফারুক ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত। আলামিনকে সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাকিবুল হোসেন ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার শিহাবের কোনো সাংগঠনিক পদ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি।

অন্যদিকে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মতিন নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, টঙ্গীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, টঙ্গীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে থানার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা এবং ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে—থানার মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে কীভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ঘটনার ভিডিও ধারণের পর তা মুছে দেওয়ার অভিযোগের পেছনে প্রকৃত কারণ কী। এসব প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!