রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিন সন্তান রেখে প্রবাসী স্বামীর টাকা-সোনা নিয়ে উধাও গৃহবধূ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

তিন সন্তান রেখে প্রবাসী স্বামীর টাকা-সোনা নিয়ে উধাও গৃহবধূ

সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে তিন সন্তানকে রেখে এক গৃহবধূ স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী তার প্রবাসী স্বামীর সংসারে ছিলেন। এ ঘটনায় শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে টঙ্গিবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার শাশুড়ি নুর জাহান বেগম। তবে অভিযোগের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় ওই নারীর বাবার বক্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, তার মেয়েকে অন্য এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী নুর জাহান বেগম উপজেলার আমতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত সামেদ শিকদারের স্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী দ্বীন ইসলাম শিকদারের মা।

পারিবারিক সূত্র ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধীপুর গ্রামের মো. আলম শেখের দ্বিতীয় মেয়ে সিনথিয়া বেগমের সঙ্গে দ্বীন ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে জন্ম নেয়।

নুর জাহান বেগমের অভিযোগ, গত ৩১ জুলাই সকালে সিনথিয়া তার তিন সন্তানকে বাড়িতে রেখে বাবার বাড়ির উদ্দেশে চলে যান। শাশুড়ির দাবি, যাওয়ার সময় তিনি পরিবারের প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সাড়ে চার ভরি স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে যান।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সংসারে ফিরিয়ে আনার জন্য বাবার বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে সিনথিয়া আর স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি নন বলে জানান বলে অভিযোগ করেছেন নুর জাহান বেগম। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে কোনো ফল হয়নি বলে দাবি করা হয়।

নুর জাহান বেগম জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হলে তারা কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, সিনথিয়া তার স্বামী দ্বীন ইসলামকে তালাক দিয়েছেন। তবে তালাকের বিষয়টি কীভাবে এবং কখন সম্পন্ন হয়েছে, সে সম্পর্কে অভিযোগে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অবগত হয়েছেন। ধীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শরীফ হোসেন মাকসুদ বলেন, পারিবারিক বিরোধটি মীমাংসার জন্য তিনি চেষ্টা করেছিলেন। তবে সিনথিয়া তার স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করতে রাজি হননি বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে সিনথিয়ার বাবা মো. আলম শেখের বক্তব্যে বিষয়টি আরও ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। তিনি বলেন, তার মেয়েকে অন্য এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। তবে ওই বিয়ে কবে, কোথায় এবং কার সঙ্গে হয়েছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি জানাননি।

এদিকে শাশুড়ির অভিযোগে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে সিনথিয়ার বক্তব্য জানা যায়নি। একইভাবে তার স্বামী দ্বীন ইসলামের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগে উল্লেখ করা অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।

পরিবারটির মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের পর হঠাৎ করে তিন সন্তানকে রেখে সিনথিয়ার বাবার বাড়িতে চলে যাওয়া, এরপর স্বামীর সংসারে ফিরে না আসা এবং পরবর্তীতে তার অন্যত্র বিয়ে হওয়ার তথ্য সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, সিনথিয়া চলে যাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে সিনথিয়ার বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়েছে। ফলে ঘটনাটি কেবল পারিবারিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, নাকি এর সঙ্গে অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের কোনো আইনগত বিষয় যুক্ত হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হতে পারে।

এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসার পরই আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তিন সন্তানকে রেখে ওই নারীর চলে যাওয়া, টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং পরে তার অন্যত্র বিয়ের খবরকে ঘিরে। তবে এসব বিষয়ের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!