রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এবার ৫ দেশি মাছেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১০:২১ এএম

এবার ৫ দেশি মাছেও মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক!

সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আড়িয়াল বিলে বসবাসকারী পাঁচ প্রজাতির দেশি ছোট মাছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশের একদল গবেষকের পরিচালিত সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ না মিললেও দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করতে থাকলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য, জলজ পরিবেশ এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষণার অংশ হিসেবে আড়িয়াল বিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি, তলদেশের পলি এবং মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বর্ষা, শীত ও শুষ্ক—এই তিন মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে দূষণের প্রকৃতি ও মাত্রা নির্ণয় করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, বিলের পানি ও পলিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ছড়িয়ে রয়েছে, যা ধীরে ধীরে মাছের দেহেও প্রবেশ করছে।

পর্যবেক্ষণে কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা এবং পুঁটি—এই পাঁচ প্রজাতির মাছকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে কই মাছের দেহে সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, সর্বভূক স্বভাবের কারণে কই মাছ খাদ্যের সঙ্গে তুলনামূলক বেশি দূষিত কণা গ্রহণ করে। এরপর বাটা মাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি মাছেও বিভিন্ন মাত্রায় এ ধরনের কণার উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ কণাই ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম তন্তুজাতীয় প্লাস্টিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপড় ধোয়ার সময় নির্গত কৃত্রিম তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্য, প্লাস্টিকের জাল এবং বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকজাত সামগ্রী থেকে এসব কণা জলাশয়ে পৌঁছায়। পরে তা জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের দেহেও পৌঁছাতে পারে।

গবেষকদের ভাষ্য, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে বিষয়টিকে অবহেলা করার সুযোগও নেই। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক মানবদেহে জমতে থাকলে নানা জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং জলাশয় দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!