প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ধরনের চিনিতে আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জনপ্রিয় কয়েকটি মোড়কজাত এবং খোলা—উভয় ধরনের চিনিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানুষ অজান্তেই এসব কণা শরীরে গ্রহণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
গবেষণায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের চিনির নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। পরীক্ষায় প্রতি কেজি চিনিতে গড়ে তিন শতাধিক মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এসব কণার বেশিরভাগই আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং বিভিন্ন রঙের ছিল। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মানুষের নিয়মিত চিনি গ্রহণের ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মানবদেহের রক্তেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এবার খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিনিতেও একই ধরনের কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শুধু নিজেই ঝুঁকি সৃষ্টি করে না, বরং অন্যান্য ক্ষতিকর দূষক পদার্থ বহন করতেও সহায়তা করতে পারে।
বিশ্লেষণে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকজাত উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এসব কণা ঠিক কোন পর্যায়ে চিনিতে মিশছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের ধারণা, উৎপাদন, পরিশোধন, পরিবহন, সংরক্ষণ কিংবা মোড়কজাত করার বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপকরণ থেকে এ দূষণ ঘটতে পারে।
গবেষকরা মনে করছেন, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা চালু, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত তদারকি এবং এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে খাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্লাস্টিক দূষণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।



