রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি

ফাইল ছবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার অভিযোগের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় সত্যতা যাচাই এবং জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আদালত দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন।

এর আগে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার অভিযোগ তদন্তের আবেদন জানিয়ে একজন আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন। তার আবেদনে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণায় দেশের বাজারে পাওয়া ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষাধীন ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই বিভিন্ন মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮টি নমুনায় এমন কোনো কণা পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হওয়ার তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণায় বাংলাদেশে উৎপাদিত টুথপেস্টের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি বিভিন্ন পণ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে দেখা যায়, দেশীয় ও আমদানিকৃত—উভয় ধরনের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের ব্যবহারের জন্য বাজারজাত কয়েকটি টুথপেস্টেও এ ধরনের কণা শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি আধুনিক পরীক্ষাগারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকদের মতে, টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে কোথাও মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ না থাকায় ভোক্তারা প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহে প্রবেশ করলে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে। তাই টুথপেস্টের মতো প্রতিদিন ব্যবহৃত পণ্যে এ ধরনের উপাদানের উপস্থিতি থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

হাইকোর্টের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্তে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নিরাপদ ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করতে মান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত তদারকি এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!