প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষিত অধিকাংশ টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। তবে পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে মাত্র আটটিতে কোনো ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা সচেতনতার ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একটি পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এক বছরব্যাপী পরিচালিত এই গবেষণায় দেশীয় ও বিদেশি মিলিয়ে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ২৬টি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে, যা মোট নমুনার প্রায় তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি।
গবেষণায় যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি, সেগুলো হলো— জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি, প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট এবং কোডোমো অরেঞ্জ।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। কয়েকটি পণ্যে এ কণার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্ট নিয়েও গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষিত ছয়টি শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। তবে দুটি পণ্যে এমন কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষিত কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ব্যবহৃত কৃত্রিম পলিমারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ক্রেতারা পণ্য কেনার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারছেন না। এতে সচেতনভাবে পণ্য নির্বাচন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ ছাড়া দেশজুড়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। গবেষকদের মতে, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং পণ্যের মোড়কে উপাদানের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি।



