রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক কতটা?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক কতটা?

ফাইল ছবি

মানুষের রক্তে থাকা অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সঙ্গে হৃদ্‌রোগের একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন গবেষকেরা। ইতালিতে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে এসব কণা সরাসরি হৃদ্‌রোগ বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

গবেষণাটিতে মোট ৬১ জন রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ছিলেন, কেউ দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন এবং অন্যদের হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি স্বাভাবিক ছিল। গবেষকেরা হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তাতে অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পরীক্ষা করেন।

ফলাফলে দেখা যায়, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর যাদের হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি স্বাভাবিক ছিল, তাদের ৩২ শতাংশের নমুনায় এসব কণা পাওয়া যায়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ধূমপান ও বায়ুদূষণের সংস্পর্শের সঙ্গে রক্তে প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ধূমপান ও দূষিত বাতাসের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে এসব অতিক্ষুদ্র কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। তবে এই বিষয়টিও আরও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গবেষকদের মতে, প্লাস্টিক দূষণ, রক্তে অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মাত্র ৬১ জনের ওপর গবেষণা হওয়ায় এর ফলাফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বড় পরিসরে ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কতটা বাড়ায় এবং এর পেছনে কী ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করে, তা নির্ণয় করতে হবে।

গবেষণাটি ১৫ জুলাই ইউরোপীয় হৃদ্‌রোগবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষণার ফলাফল পরিবেশদূষণ ও মানুষের হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!