প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
দেশের উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত ও চিকিৎসকের সংকট কমাতে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সহকারী সার্জন বা সমমানের পদে ৪ হাজার ৭০০ জন এবং সহকারী দন্ত সার্জন পদে আরও ৩০০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন নিয়োগের ফলে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে। এর মধ্যে ৩১ শয্যার ৪৮টি, ৫০ শয্যার ৩৭৩টি এবং ১০০ শয্যার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে জনগণের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দিনে দুই দফা বহির্বিভাগীয় চিকিৎসাসেবা, পরীক্ষাগার কার্যক্রম ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগও রয়েছে।
জানা গেছে, নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে এসব পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বছরে প্রায় ২৮৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এর বাইরে প্রশাসনিক ও পরিচালনাসহ অন্যান্য খরচও থাকবে।
স্বাস্থ্য খাতে নতুন জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি সরকারের বড় উদ্যোগগুলোর একটি। এর আগে করোনাভাইরাসের মহামারির সময় ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১৫ হাজার ৩৮৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ওই সময় ৬ হাজার সহকারী সার্জন বা সমমানের পদ এবং ৪ হাজার জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্সের পদ উল্লেখযোগ্য ছিল।
চলতি অর্থবছরেও সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন পদে নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এ খাতে ১৫ হাজার ৮২০টি পদে নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের উপস্থিতি বাড়বে এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।



