প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। একদিনের অভিযানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ২ হাজার ৩৭৭টি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনকে আইনের আওতায় আনা হয়। সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রমনা এলাকায় মোট ৮১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাসের বিরুদ্ধে চারটি, ট্রাকের বিরুদ্ধে একটি, কাভার্ড ভ্যানের বিরুদ্ধে পাঁচটি, সিএনজির বিরুদ্ধে ছয়টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা রয়েছে।
লালবাগ এলাকায় করা হয়েছে ২০৫টি মামলা। মতিঝিল এলাকায় মামলার সংখ্যা ৩৮২টি। ওয়ারী এলাকায় ৪৩৩টি এবং তেজগাঁও এলাকায় ১৫২টি মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া মিরপুর এলাকায় ২৯৭টি, উত্তরা এলাকায় ৫০৬টি এবং গুলশান এলাকায় ৩২১টি মামলা করা হয়েছে। এসব এলাকার অভিযানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা করা হয়েছে।
অভিযানের সময় শুধু মামলা করেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। আইন অমান্যকারী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকা বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে মোট ৫৫৭টি গাড়ি আটক করে ডাম্পিং করা হয়েছে। পাশাপাশি ২১১টি গাড়ি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ, অনিয়মিত চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে প্রায়ই যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে ট্রাফিক বিভাগ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চালক ও যানবাহন মালিকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, চালক ও পথচারী—সব পক্ষের সচেতনতাও জরুরি। নিয়ম মেনে যানবাহন চালানো এবং ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করা হলে রাজধানীর সড়কে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা কমানোর পাশাপাশি যান চলাচল আরও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।



