রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যশোরে পথচারীকে চাপা দিয়ে এতিমখানায় বাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

যশোরে পথচারীকে চাপা দিয়ে এতিমখানায় বাস

ছবিঃ সংগৃহীত

যশোরের কেশবপুরে এক নারী পথচারীকে চাপা দেওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ভবনে ঢুকে পড়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় রোকেয়া বেগম নামে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। দুর্ঘটনায় বাসের একজন সহকারীও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসটি আটক করেছে মহাসড়ক পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন।

শুক্রবার সকালে যশোর-চুকনগর সড়কের কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রোকেয়া বেগম মধ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টার দিকে যশোরের দিকে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বাস। তখন বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিল না। মধ্যকুল উত্তরপাড়া এলাকায় মাদরাসা ও এতিমখানার সামনে পৌঁছালে সড়কের বাম পাশে হাঁটছিলেন রোকেয়া বেগম। হঠাৎ বাসটি তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নারীকে চাপা দেওয়ার পরও বাসটি থামেনি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি সড়কের ডান পাশে থাকা মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ভবনের সামনের অংশে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি ভবনের সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ভবনের সামনের অংশে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা সহকারী মানিক ফকিরও আহত হন। ৪২ বছর বয়সী মানিক গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সোদ্দিগ্রামের বাসিন্দা। সংঘর্ষে তার ডান পায়ে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে মহাসড়ক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি আটক করে। নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালক হাফেজ গোলাম মোস্তফা জানান, ফজরের নামাজের পর রোকেয়া বেগম হাঁটতে বের হয়েছিলেন। ওই সময়ই বাসটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বাসটি প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশে ঢুকে পড়ায় ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কেউ আহত হননি বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হন এবং আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে পুলিশ এসে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।

খুলনার খর্ণিয়া মহাসড়ক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সি হাসান পারভেজ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি আটক করেছে। নিহত নারীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ভোরের দিকে সড়কে যানবাহন চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও এমন দুর্ঘটনায় একজন পথচারীর প্রাণহানি এবং একটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পথচারী চলাচলের সময় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের সতর্কতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

এ ঘটনায় বাসটির চালক কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে। পুলিশও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!