রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেওড়াপাড়া থেকে নিখোঁজ শিশু উদ্ধার শরীয়তপুরে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

শেওড়াপাড়া থেকে নিখোঁজ শিশু উদ্ধার শরীয়তপুরে

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ সাত বছর বয়সী শিশু নুসরাত জাহানকে দুই দিন পর শরীয়তপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুথী আক্তার নামে ২২ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসার কাছাকাছি এলাকায় খেলছিল নুসরাত। খেলাধুলার একপর্যায়ে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছেও শিশুটির সন্ধান নেওয়া হয়। কোথাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে শিশুটির সন্ধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার স্থান এবং আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য পর্যালোচনা করা হয়। এক পর্যায়ে একটি দৃশ্যে দেখা যায়, পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের গলি দিয়ে এক তরুণী নুসরাতের হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই নারীর পরনে ছিল কালো রঙের সালোয়ার-কামিজ।

পুলিশের পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পরে একটি রিকশায় ওঠেন। এরপর বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণ করে তাদের গতিপথ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, সন্দেহভাজন নারী শিশুটিকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে গেছেন।

পুলিশের দাবি, তদন্তের একপর্যায়ে ওই নারীর অবস্থান শরীয়তপুর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। এরপর শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নুসরাতকে উদ্ধার করা হয় এবং যুথী আক্তারকে আটক করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়ার পর শিশুটিকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রয়েছে।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ফুটেজে শিশুটিকে ওই নারীর হাত ধরে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হয়েছে, শিশুটি হয়তো আগে থেকেই ওই নারীকে চিনত।

নুসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। শিশুটিকে কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটিকে কীভাবে রাজধানী থেকে শরীয়তপুরে নেওয়া হলো, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুই দিন পর শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে নুসরাতের স্বজনদের মধ্যে। তবে শিশু নিখোঁজের মতো ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি আশপাশের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!