প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় একটি ফার্নিচারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ ইউনিটের আর প্রয়োজন হয়নি। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে সাতারকুল এলাকার একটি ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রথমে বারিধারা অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
প্রায় ২৪ মিনিট পর সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর ওই দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। গোডাউনে ফার্নিচার ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত ইউনিটের সহায়তা চাওয়া হয়।
এরপর পূর্বাচল অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত ইউনিট দুটি আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেওয়ার জন্য রওনা দিলেও পথেই তাদের ফিরে যেতে হয়। কারণ, সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলের আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে পূর্বাচল থেকে আসা দুটি ইউনিট আর ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রয়োজন হয়নি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফার্নিচারের গোডাউনটিতে আগুন লাগার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন।
অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, অথবা সেখানে থাকা ফার্নিচার ও অন্যান্য সামগ্রীর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে কী কারণে গোডাউনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অসাবধানতা নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে ফার্নিচারের মতো দাহ্য সামগ্রী সংরক্ষিত স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।



