রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মঠবাড়িয়ায় অস্ত্র ও ককটেলসহ ডাকাত দলের সর্দার আটক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

মঠবাড়িয়ায় অস্ত্র ও ককটেলসহ ডাকাত দলের সর্দার আটক

ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের কথিত সর্দার মো. দুলাল মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের খায়ের ঘটিচোরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খায়ের ঘটিচোরা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে দুলাল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তার বসতবাড়ির আশপাশে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় হাঁস পালনের ঘরের ওপর বিশেষভাবে রাখা একটি বাজারের ব্যাগের সন্ধান পায় পুলিশ।

ব্যাগটি খুলে তল্লাশি চালানোর পর সেখান থেকে ম্যাগাজিনবিহীন একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লাল কসটেপে মোড়ানো ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। উদ্ধার করা এসব সামগ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার দুলাল মিয়া মঠবাড়িয়া উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুল খালেক সরদারের ছেলে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত এবং দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও জানিয়েছে, দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি জেলার একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলাও রয়েছে। পুরোনো মামলাগুলোর পাশাপাশি নতুন করে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার হিসেবে পরিচিত। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের এই অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বসতবাড়ির পাশে থাকা হাঁসের ঘরের ওপর অস্ত্র ও ককটেল সদৃশ বস্তু লুকিয়ে রাখার বিষয়টি নজরে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এগুলোর প্রকৃত ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

দুলাল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্য এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা অস্ত্র ও ককটেল সদৃশ বস্তু কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোনো সাম্প্রতিক অপরাধে এগুলো ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!