প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর আমানত ফেরতের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আবেদন করার তারিখ অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ ফেরত দেওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে আবেদন করা গ্রাহকদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
রাজধানীর কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা গেছে, টাকা উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন শাখায় পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে অনুমোদিত সময় অনুযায়ী আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন।
তবে বিশেষ জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেও টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শাখা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর নয়াপল্টন শাখায় টাকা তুলতে আসা এক গ্রাহক জানান, তিনি ৩ সেপ্টেম্বর অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁর সন্তান অসুস্থ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে অর্থের প্রয়োজন হয়। বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপককে জানানোর পর তাকে ২০ হাজার টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে তিনি ব্যাংকে এসে প্রয়োজনীয় অর্থ পেয়ে যান।
অন্যদিকে, ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করা আরেক গ্রাহককে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, এর আগে একাধিকবার টাকা তুলতে এসে ফিরে যেতে হয়েছিল। এবার ব্যাংকে এসে জানতে পেরেছেন, আবেদন করার তারিখ অনুযায়ী আরও দুই দিন পর তিনি টাকা তুলতে পারবেন। তবে অন্য গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হওয়ায় তিনি এবার নিজের অর্থ পাওয়ার বিষয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানত ফেরত দেওয়ার আগে আবেদনকারীদের ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের খেলাপি ঋণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এজন্য গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যবস্থায় তার ঋণের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কোনো গ্রাহকের খেলাপি ঋণের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। এরপর প্রচলিত নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার আমানতের অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব গ্রাহকের খেলাপি ঋণ নেই, তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে তাদের অর্থ তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে আবেদনকারী গ্রাহকদের ধাপে ধাপে অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্যাংকটির দায়িত্ব বর্তমানে সরকার নিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছে। তাই আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে নির্ধারিত সময়সূচি ও নিয়ম মেনে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ ফেরতের এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অনেক গ্রাহকের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আবেদন করার তারিখ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত দেওয়া হওয়ায় পরবর্তী আবেদনকারীদের নিজেদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


