প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতিতেও দেশের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়ার ধারাটিও বজায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম। ওই হিসাব অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর দেশের রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশের প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান বোঝাতে এই হিসাবটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে রিজার্ভ বাড়ার পেছনে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই দেশে ৪৩ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় দেশে আসায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
প্রতি মার্কিন ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে আসা রেমিট্যান্সের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ মাসের শুরুতেই প্রবাসীরা দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে চলতি মাসের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের দায় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে রিজার্ভের ভূমিকা রয়েছে। তাই রিজার্ভে ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ডলারের সরবরাহও বাড়ে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতাও বাড়ে।
তবে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য সূচকও স্থিতিশীল রাখা জরুরি। আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং রেমিট্যান্স—সবকিছুর ওপর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান নির্ভর করে। ফলে সামনের দিনগুলোতে রিজার্ভের এই ইতিবাচক ধারা কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসী আয় প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য ধরে রাখা সম্ভব হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিজার্ভের বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।


