রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে ১৭.৬ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৯:২৬ এএম

দেশে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে ১৭.৬ শতাংশ

প্রতীকী ছবি

চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই প্রবাসী আয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৩৬৩ দিনেই দেশে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৩৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছিল ৩০ দশমিক ০৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য হারে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করায় অর্থনীতিতে আশাবাদের নতুন বার্তা তৈরি হয়েছে।

শুধু ২৮ জুন এক দিনেই দেশে এসেছে ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাসজুড়েও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৫৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসীদের ধারাবাহিক অর্থ প্রেরণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এই অর্থ বড় অবদান রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রবাসীদের সচেতনতা এবং সরকারের বিভিন্ন উৎসাহমূলক উদ্যোগ প্রবাসী আয় বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একসময় সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বৈদেশিক লেনদেনের চাপ এবং অন্যান্য কারণে রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে। একই সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারেও বড় পরিবর্তন দেখা দেয়।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থবছরের শেষ হিসাব প্রকাশের পর রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!