প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আসন্ন অর্থবছরের বাজেট কার্যকরের আগে কর ও মূল্য সংযোজন ব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার পথে এগোচ্ছে সরকার। ব্যবসায়ী মহল, অর্থনীতি বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত একাধিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে কিছু প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব। সরকার এখন এ বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। কারণ দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের করযোগ্য আয় না থাকলেও দৈনন্দিন প্রয়োজনেই তাদের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে হয়। এ অবস্থায় কর শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
এ ছাড়া ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে করমুক্ত আয়ের যে সীমা রয়েছে, তা বৃদ্ধি করে চার লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর করের চাপ কিছুটা কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এই সীমা নির্ধারণ হলে তা পরবর্তী অর্থবছরেও বহাল রাখা হতে পারে।
আয়করের বিভিন্ন ধাপেও পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে করের হার এবং ধাপ পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এতে করব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার পাশাপাশি করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট হারে মূল্য সংযোজন কর আরোপের প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনার আওতায় এসেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসার ধরন ও অবস্থান বিবেচনায় মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর নির্ধারণের কথা ছিল। তবে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হয়রানির আশঙ্কা এবং বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় সরকার আপাতত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে।
জমি উন্নয়ন প্রকল্পে মূলধনী মুনাফার ওপর প্রস্তাবিত করের হার নিয়েও নতুন করে ভাবা হচ্ছে। আবাসন খাত ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত কর আরোপ করলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, নতুন কর ও মূল্য সংযোজন ব্যবস্থা কার্যকরের আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই মত দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকেরাও। তাদের মতে, করের আওতা বাড়ানো জরুরি হলেও তা হতে হবে ধাপে ধাপে এবং জনবান্ধব উপায়ে।
সব মিলিয়ে বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ করদাতা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। এখন সংসদে অর্থ বিল অনুমোদনের পরই এসব বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।



