প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের কাজাং এলাকায় পৃথক চারটি অভিযানে ৮৭ বাংলাদেশিসহ ১১২ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। বুধবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এসব অভিযানে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বিদেশিদের কাগজপত্র ও দেশটিতে থাকার বৈধতা যাচাই করা হয়।
অভিবাসন বিভাগের ২০ কর্মকর্তা অভিযানে অংশ নেন। চারটি অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপস বেলাঞ্জা’, ‘অপস মিনিয়াক’, ‘অপস মাহির’ ও ‘অপস সেলেরা’। অভিযানের আওতায় মোট ১১৪ জন বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই শেষে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১১২ জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ জন ইন্দোনেশীয়, পাঁচজন মিয়ানমারের এবং সাতজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৪ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮ জন পুরুষ এবং ১৪ জন নারী।
সেলাঙ্গর অভিবাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ শাখার উপপরিচালক মোহাম্মদ খুসাইরি কামারুদিন জানান, প্রাথমিক যাচাইয়ে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র বা দেশটিতে অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান এবং অভিবাসন বিধিমালা অমান্যের অভিযোগ রয়েছে।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে থাকা কাগজপত্র, দেশটিতে প্রবেশের বৈধতা এবং অবস্থানের অনুমতির বিষয়গুলো আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে।
আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সেলাঙ্গর অভিবাসন বিভাগ। তবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে কী ধরনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পর নির্ধারণ করা হবে।
মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান, অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যাওয়া এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এবারের অভিযানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আটক হওয়ায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও অভিবাসীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।


