রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বেলারুশে ‍‍`ভুয়া ভিসা‍‍` জালিয়াতি:

দালাল ও প্রতারকদের খপ্পরে নিঃস্ব হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

আবুল বারাকাত টিপু 

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

দালাল ও প্রতারকদের খপ্পরে নিঃস্ব হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

ছবি: প্রতিনিধি

বেলারুশে বৈধভাবে কর্মসংস্থান অথবা ব্যবসার আশায় দালাল ও প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ছেন বাংলাদেশের অসংখ্য যুবক। টেলেক্স বা ভুয়া আমন্ত্রণপত্র (ইনভাইটেশন লেটার) দেখিয়ে ইউরোপযাত্রার স্বপ্ন দেখিয়ে নানা প্রতিশ্রুতিতে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই প্রক্রিয়ার শেষ গন্তব্য হচ্ছে বেলারুশ অভিবাসন পুলিশের জেল, কিংবা নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরত আসা। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, দুবাই ও বেলারুশ ইমিগ্রেশন পুলিশ স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন—শুধু আমন্ত্রণপত্র অথবা টেলেক্স দিয়ে কেউ যেন বেলারুশে না যায়।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, দালাল চক্রগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় (মতিঝিল,পল্টন, বনানী, গুলশান,সহ রাজধানী ও প্রধান শহরগুলোতে) অফিস খুলে তাদের এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। বেশিরভাগই ‘আরএল’ (রেগুলার লাইসেন্স) বিহীন ভূঁইফোড় এজেন্সি। এরা অল্প শিক্ষিত-প্রান্তিক মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে ভুয়া ‘বিজনেস’ কিংবা ‘জব ভিসা’ সংগ্রহের আশ্বাস দিয়ে টেলেক্স ও আমন্ত্রণপত্র প্লে-কার্ড ধরিয়ে দেয়। পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্পিং কিংবা যথাযথ যাচাই ছাড়া এসব কাগজে কেউ গেলে ঝুঁকিতে পড়তে হয় জীবন ও অর্থ সব।

ভুক্তভোগী একজন জানান, “বেলারুশে ভালো চাকরি বা উচ্চ বেতনের কাজ কথার ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছু নয়। এখানে মূলত পশুখামার, নির্মাণ কাজ, কাঠের স-মিল কিংবা আলু-পেঁয়াজ–শুকরের মাংসের প্যাকেজিং-এর মতো কষ্টকর ও অপ্রত্যাশিত কাজ ছাড়া তেমন কিছু নেই। যেসব কোম্পানি আমন্ত্রণপত্র দেয়, তাদের বেশিরভাগই ভুয়া—চুক্তিপত্র আর ভাষা বুঝে না দেখে সই করা বিপজ্জনক। প্রায়ই বেলারুশ প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ পাসপোর্ট ও ভিসার সত্যতা না পেলে যাত্রীকে আটক করেন। ফেরত যেতে হয় নিজের খরচে—হাতে গোনা কিছু টাকা ছাড়া।”

সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪০-৪৫ জন বাংলাদেশি বেলারুশ থেকে দেশে ফিরে দালাল ও সংশ্লিষ্ট ভূয়া এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কিছু মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তে উঠেছে, বাংলাদেশে বেলারুশের দূতাবাস বা বৈধ ভিসা কার্যক্রম না থাকায় এ সুযোগে দালাল চক্র উঠতেছে মাথাচাড়া দিয়ে।

বিশেষজ্ঞ ও অভিবাসন কর্মকর্তারা বলেন, “উন্নত জীবনের আশায় কেউ যেন অজানা ও অসত্য প্রতিশ্রুতি বা টেলেক্স/আমন্ত্রণপত্রের ফাঁদে পা না দেন। বেলারুশ যেতে হলে ভারত থেকে বৈধ এম্বাসি হয়ে সরকারি নিয়মে ভিসা স্ট্যাম্পিং নিয়ে যেতে হবে, শুধু আমন্ত্রণপত্রে নয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকা থেকে প্রতিদিন যেসব নিরীহ মানুষ এই কৌশলে অর্থ ও সম্ভাবনা হারাচ্ছেন, তাদের জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ভুয়া ও লাইসেন্সবিহীন সব এজেন্সির বিরুদ্ধে চলছে চলমান অভিযান, চলছে আরও মামলা।

বিশেষ সতর্কতা: 
কেউই যেন কোনো ‘দালাল’ বা সন্দেহজনক ব্যক্তি/এজেন্সির মিষ্টি কথা ও ভুয়া কাগজে প্রলুব্ধ হয়ে বেলারুশে না যান, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। নয়তো ঝুঁকির মুখে পড়বে স্বপ্ন, হয়তো নিঃস্ব হবে পরিবারও।

পরবর্তী বিশেষ প্রতিবেদনে: 
ঐসব দালাল, ভুয়া ও আরএল ছাড়াই পরিচালিত এজেন্সির পরিচয়সহ বিস্তারিত  খোলাসা করা হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Link copied!