রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, সম্পর্ক ভাঙার পর আদালতে প্রেমিক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪  কোটি টাকা খরচ, সম্পর্ক ভাঙার  পর আদালতে প্রেমিক

প্রতিকী ছবি

প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে সাবেক প্রেমিকার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। তবে আদালত তার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, ওই অর্থের বড় অংশই ছিল স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার; ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ী।

মামলাটি করেছেন চন্দর আগরওয়াল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি একটি সরবরাহ ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সাবেক বিমানকর্মী ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয় ২০১৯ সালে একটি উড়োজাহাজে। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা সম্পর্কে ছিলেন।

সম্পর্ক চলাকালে লির পেছনে বিভিন্ন খাতে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯০ সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেছিলেন আগরওয়াল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই অর্থের মধ্যে ব্যক্তিগত ব্যয়, বিদেশ ভ্রমণ, জীবনবিমার কিস্তি, আবাসনের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শসহ বিভিন্ন খরচ ছিল।

আগরওয়ালের দাবি ছিল, এসব অর্থ তিনি নিছক উপহার হিসেবে দেননি; বরং তার সাবেক প্রেমিকা বিভিন্ন সময়ে সুদবিহীন ঋণ হিসেবে অর্থ নিয়েছিলেন। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি আইনি পদক্ষেপ নেন। ২০২৪ সালের মার্চে তিনি মামলা করেন।

অন্যদিকে ফেলিসিয়া লি আদালতে দাবি করেন, সম্পর্কের সময় আগরওয়াল ভালোবাসা ও স্নেহ থেকে এসব অর্থ ব্যয় করেছিলেন। এগুলো কোনো ঋণ ছিল না এবং টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে এমন কোনো চুক্তিও ছিল না।

মামলার শুনানিতে আদালতের সামনে উঠে আসে, সম্পর্ক শুরুর আগেও আগরওয়াল লিকে দামি উপহার দিয়েছিলেন। সম্পর্ক চলাকালে বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন ব্যয়ও তিনি বহন করেন। এসব লেনদেনের ধরন পর্যালোচনা করে আদালত মনে করেন, অর্থগুলো ঋণের পরিবর্তে উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রবণতাই বেশি স্পষ্ট।

ব্যবসায়ীর দাবি করা অর্থের একটি বড় অংশ ছিল ঋণ হিসেবে দেওয়া—এমন বক্তব্যের সমর্থনে তিনি কিছু নথি আদালতে উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে একটি হাতে লেখা চুক্তির কথাও বলা হয়। তবে সাবেক প্রেমিকা ওই নথিতে নিজের স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। আদালতও নথিটির গ্রহণযোগ্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিচারক লি সিউ কিন ৯ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করে আগরওয়ালের দাবি খারিজ করে দেন। আদালতের মতে, তিনি যে অর্থগুলোকে ঋণ হিসেবে দাবি করেছেন, সেগুলো ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ফেলিসিয়া লি সম্মত ছিলেন—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং সম্পর্কের সময় আগরওয়ালের আচরণে লিকে স্বেচ্ছায় দামি উপহার দেওয়ার বিষয়টিই বেশি প্রতীয়মান হয়েছে।

আদালত আরও মনে করে, সম্পর্কের অবসান তিক্ততার মধ্য দিয়ে হওয়ার পর আগরওয়াল আগের ব্যয় করা অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্পর্ক চলাকালে যেসব অর্থ উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোকে পরবর্তী সময়ে ঋণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে তার অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এই মামলার মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্কের সময় দেওয়া অর্থ ও উপহারের আইনি অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কোনো অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হলে তার প্রমাণ, ফেরতের শর্ত কিংবা উভয় পক্ষের সম্মতির বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন—এমন বিষয়ও মামলার রায়ে গুরুত্ব পেয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ ব্যয় করেও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত পেলেন না ব্যবসায়ী। আদালতের সিদ্ধান্তে তার সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে দাবিকৃত বিপুল অর্থ উদ্ধারের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Link copied!