প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ইয়েমেনে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য অর্জনের দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারির দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর শত শত সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। একই অভিযানে ইয়েমেনের হুদাইদাহ ও তাইজ প্রদেশের প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে এসব দাবি করেন ইয়াহিয়া সারি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনি সেনা ও তাদের মিত্র স্থানীয় যোদ্ধারা দুই প্রদেশের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
হুথি মুখপাত্র বলেন, ‘আল্লাহ শক্তি ও শাস্তিদানে সর্বশ্রেষ্ঠ’ নামে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এসব সাফল্য এসেছে। তার দাবি, অভিযানে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর সাতটি সামরিক ডিভিশন পরাজিত হয়েছে। এসব ডিভিশনের অধীনে থাকা ৩৮টি ব্রিগেডও অভিযানের মুখে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক যোদ্ধাকে আটক করার দাবি করেছে হুথিরা। সৌদি সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন বন্দিশিবির থেকে অনেক বন্দিকে মুক্ত করার কথাও জানিয়েছেন ইয়াহিয়া সারি। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরব বা তাদের সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বতন্ত্র নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সারি আরও দাবি করেন, হুথিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট সাম্প্রতিক সময়ে ৩২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে সৌদি বাহিনীর নয়টি বিমান শনাক্ত ও ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে। সামরিক অভিযানে নিহত নিজেদের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগের প্রশংসাও করেন তিনি।
এদিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিয়েও হুথিদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখপাত্রটি। তার ভাষ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজের জন্য লোহিত সাগরের পথ খোলা রয়েছে। তবে সৌদি পণ্যবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেনের ওপর সামরিক অভিযান ও অবরোধ বন্ধ না হলে সৌদি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। সৌদি পক্ষ থেকে সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হলে হুথিরাও তাদের প্রতিক্রিয়া আরও জোরদার করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে ২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়। তাদের ভাষ্য ছিল, ইয়েমেনের ওপর অবরোধ ও সামরিক চাপের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অবশ্য হুথিদের অবরোধের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষার ঘোষণা দেয়।
ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু হয় ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে দেশটির ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌপথ ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


