রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদির চার শহরে হুতিদের হামলা, আহত ৭৩

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

সৌদির চার শহরে হুতিদের হামলা, আহত ৭৩

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চার শহরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর কয়েকটি জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর হামলা হিসেবে দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এ হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের আভা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নজরান শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, এসব হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি স্থানে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করে।

হুতিদের পক্ষ থেকেও হামলার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আভা, নজরান ও জাজানের জ্বালানি স্থাপনা এবং খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করা হয়। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইয়েমেনবিরোধী সামরিক তৎপরতার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। সংশ্লিষ্ট জরুরি সংস্থাগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করেছে।

ঘটনাটিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির বক্তব্য, বেসামরিক মানুষ ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা তাদের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এই হামলার সময় ইয়েমেনেও নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে আবার অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ বাড়ার পাশাপাশি সীমান্তপারের হামলাও নতুন করে শুরু হয়েছে। এর ফলে ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর তৈরি হওয়া আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সংঘাতের নতুন এই বিস্তার শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এরই মধ্যে হামলার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে সৌদি আরবের চার শহরে হুতিদের সর্বশেষ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বেসামরিক হতাহত, জ্বালানি স্থাপনায় আগুন এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব সৌদি আরব, ইয়েমেন ও আশপাশের অঞ্চল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Link copied!